শিশু সাব্বিরের -১ হাত কেটে ফেলা হয়েছে। অপরাধী রব মিয়া বলেন দুলাভাইয়ের যাকাতের টাকা দিয়ে সাহায্য করা হবে।

0
10

দৈনিক ভোলা সময় নিয়েছে।

ইত্তিজা হাসান মনির। জেলা প্রতিনিধি বরগুনা।

সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী শিশুশ্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বরগুনা সদর ইউনিয়নের ঢলুয়া গ্রামের মোঃ রিপনের ছেলে মোঃ সাব্বির (১০) কে পাশের বাড়ীর আঃ রব মিয়া (৫৫) পিতা নয়া মিয়া সুপারী গাছে উঠিয়ে সুপারী পারানোর ফলে সুপারি গাছের সাথে বিদ্যুতের লাইন থাকায় বিদ্যুৎস্পর্শ হয় ডান হাতটি কেটে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে সাব্বির( ১০) পঙ্গুত্ব অবস্হায় দিনাতিপাত করছে।
সাব্বিরকে প্রথম বরগুনা সদর হাসপাতাল এরপর বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল সবশেষ শেখ হাসিনা বার্ন হাসপাতাল চিকিৎসা দেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস চিকিৎসার পরে সাব্বিরের ডান হাতটি সম্পূর্ণ কেটে ফেলা হয়েছে বাম হাতের অবস্থা ভালো নেই। সাব্বিরের দরিদ্র মাতা পিতা চিকিৎসা বাবদ লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করার পর তারা এখন নিঃস্ব। অপরাধী রব মিয়া প্রভাবশালী হওয়ার কারণে এলাকার সালিশ ব্যবস্থা চেয়ারম্যান প্রশাসন কারো কাছে কোন বিচার পাচ্ছে না সাব্বিরের মা বাবা।

অন্যদিকে আব্দুর রব সাব্বিরের কোনো খোঁজ খবর নিচ্ছে না। পার্শ্ববর্তী সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী মোসাম্মাৎ শিরিনা আক্তার রিনার স্বামী মহসিন বিদেশ থাকার কারণে তার ই ঘরে রাত্রি থাকার জন্য জাকির নামের এক প্রতিবেশী সাব্বিরকে ঠিক করে দেয়। রিনার অনুরোধে নিজের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে সাব্বিরকে তার সাথে থাকার জন্য দেয়া হয়। রিপন দুটি সন্তান নিয়ে কষ্টে থাকলেও নিজের সন্তানদের কে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছিল।

একমাস থাকার পরে রিনা তার পরিবারের সকল কাজকর্ম দরিদ্র সাব্বির এর মাধ্যমে করাতে থাকে।একপর্যায়ে রিনা সাব্বিরকে দিয়ে নিজের সুপারি গাছ থেকে সুপারি পাড়ায়, পার্শ্ববর্তী আব্দুর রবকে খবর দেয় তোমার সুপারী পাড়াতে হলে আমার বাড়িতে আসো। রব মিয়া তাড়াহুড়ো করে বরগুনা শহর থেকে বাড়িতে গিয়ে সাব্বিরকে নিজের গাছে উঠিয়ে দেয়। তখন সাব্বির বলে এত চিকন গাছে আমি উঠতে পারবো না তাছাড়া বিদ্যুতের লাইন পাশেই থাকায় গাছে উঠতে অনীহা প্রকাশ করে। তখন রব মিয়া বলে কিছু হবে না তুই গাছে ওঠ। সাব্বির ছোট মানুষ প্রতিবাদ না করে গাছে উঠে পড়ে। সুপারি গাছ হেলে বিদ্যুতের লাইনে পড়ে যাওয়ার সাথে সাথে সাব্বিরকে বিদ্যুৎ স্পর্শ করে এতে সাব্বির নীচে পড়ে মাথা ফেটে যায় হাত পা সারা শরীর রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকে। শুরু হয় রব এবং রিনার সাথে থাকা পান্না মিয়ার চিকিৎসার নামের লুকোচুরি।
বরগুনা হাসপাতাল থেকে শুরু করে ঢাকা হাসপাতাল পর্যন্ত চিকিৎসার অবহেলা। রিপন এবং তার স্ত্রী ঝুমুর সন্তানের চিকিৎসা দেয়ার জন্য মানুষের ধারে ধারে ঘুরে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে এ পর্যন্ত অনেক টাকা ব্যয় করে ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে এসেছে। সাব্বিরের বাম হাতটিও অপারেশনের প্রয়োজন হবে। সাব্বিরের দুটি পা ও নাজুক অবস্থায় রয়েছে। একেবারে বিছানায় পড়ে থাকা সাব্বিরকে অন্যের সাহায্যে বসতে হয়। এমত অবস্থায় সাব্বিরের মা বাবা এলাকার মানুষের কাছে ঘুরেও কোন অধিকার পাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে আব্দুর রবের সাথে যোগাযোগ করলে সে বলে এরকম এলাকায় অনেক মানুষই সুপারি পাড়ায় এক্সিডেন্ট হলে আল্লাহ করেছে আমি কি করবো। তারপরও বছরের শেষে আমার দুলাভাইয়ের (আবু খান)কাছ থেকে যাকাতের টাকা এনে দেয়ার চেষ্টা করব। চেয়ারম্যানকে বলে ৩০ কেজি চাল যেন পায় সেই ব্যবস্থা করব এর চেয়ে বেশি কিছু করার নেই।
শিরিনা আক্তার রীনা বলেন আব্দুর রব এবং পান্না মিয়াএ ব্যাপারে আমাকে কথা বলতে নিষেধ করেছে।
ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুস সালাম বলেন, গরিব মানুষের পক্ষে কেহ নেই সাব্বিরের মা-বাবা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে কোন সুরাহা পায়নি রব মিয়া প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তাদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না।

পূর্ববর্তী খবরভোলায় টিটু হত্যা মামলার আসামি শাহিন ও নিরব আটক।
পরবর্তী খবরইলিশা ফেরিঘাটে কর্ণফুলী-১ লঞ্চের ধাক্কায় স্পিডবোড সুপার সনিক লঞ্চ ও নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত আহত-১