ভোলা জনস্বাস্থ্যের বেসিন এখন ডাস্টবিন!

0
59

জনস্বাস্থ্য’র বেসিন এখন ডাস্টবিন!

ভোলারসময় নিউজ ডেস্ক রির্পোট,

ভোলা করোনাকালীন সময়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে সরকারি উদ্যোগে হাত ধোয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল বেসিন। ভোলার বিভিন্ন স্থানে তৈরি এসব বেসিন যথাযথ দেখভালের অভাবে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কোনো কোনো বেসিনে পড়েছে ময়লার স্তূপ। অনেকেই এগুলোকে ব্যবহার করছে ডাস্টবিন হিসেবে!
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ভোলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর কর্তৃক নির্মিত এসব বেসিন নোংরা হয়ে পড়ে আছে। ভোলা পৌরসভার মধ্যে যোগীর ঘোল চত্বর, ভোলা সদর উপজেলা চত্বর, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস, পরানগঞ্জ বাজার মসজিদ সংলগ্ন, ভোলা সরকারি স্কুল মাঠ, ভোলা সদর হাসপাতাল, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ও ভোলা পৌর ভবনের বিপরীতে এবং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লোকসমাগমের স্থানে মোট ১৬টি বেসিন নির্মাণ করেছে ভোলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। এ ছাড়া ভোলা শহরের বাইরে প্রতি উপজেলায় দুটি করে মোট ২৮টি বেসিন নির্মাণ করা হয়েছে ।
ভোলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর থেকে নির্বাচিত নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ইলিয়াছ এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী জনাব মো. ইলিয়াছ সিটি নিউজকে জানান, জেলায় জরুরি ভিত্তিতে ২৮টি বেসিনের মধ্যে তার প্রতিষ্ঠান ২২টি বেসিন ২৯ হাজার টাকা দরে নির্মাণ করে। জরুরি ভিত্তিতে বেসিনগুলো নির্মাণ করে ভোলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের কাছে হস্তান্তর করে। এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা ভোলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের দায়িত্ব।
পথচারী ইভান তালুকদার বলেন, ‘জনসাধারণের হাত ধোয়ার জন্য বসানো বেসিনগুলো এখন ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকায় এগুলো এখন পরিত্যক্ত। সাবান আর পানিবিহীন বেসিনগুলোর কোনোটির কলই নেই। পানির ড্রামে জমেছে ময়লার ভাগাড়। জমে থাকা ময়লাপানিতে হচ্ছে মশার প্রজনন। এর দ্রুত সমাধান না করলে করোনার এই দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় হিমশিম খেতে হবে।’
নতুন বাজারের ব্যবসায়ী মো. ইসমাইল হোসেন সিটি নিউজকে বলেন, ‘গত বছর করোনাকালীন সময় তাড়াহুড়ো করে বেসিনগুলো নির্মাণ করা হয়, তারপর থেকে কেউ এগুলোর দেখভাল করেনি। কিছুদিন চলার পর হঠাৎ সেগুলো অচল হয়ে যায়।’
এ বিষয়ে ভোলা জেলা সচেতন নাগরিক ফোরাম সদস্য সচিব মো. বাহাউদ্দিন বলেন, ‘জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্মাণ করা বেসিনগুলো সঠিক তদারকির অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থাতে রয়েছে। প্রথম দিকে সাবান, পানি বা পরিচর্যা থাকলেও এখন তার কোনোটারই ব্যবস্থা নেই।
ভোলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ আলম জানান, আমরা ইউনিসেফ থেকে যে পরিমাণ সাবান পেয়েছি তা সব বেসিনেই দিয়েছি কিন্তু পরের দিন আর সাবান পাওয়া যায়নি। বেসিনগুলোর পরিচর্যার ব্যাপারে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
ভোলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহমুদ খান বলেন, ‘করোনার প্রথম ধাপে গত বছর জরুরি ভিত্তিতে ২৮টি বেসিন নির্মাণ করা হয়। করোনা পরবর্তী সময় এগুলোর আর পরিচর্যা করা হয়নি। নির্মাণের সময় যে স্থানে বেসিনগুলো নির্মাণ করা হয়েছে সেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ করবে বলে তারা প্রস্তাব রেখেছিল। কিন্তু ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ না করায় যোগীর ঘোল চত্বরের বেসিনটি অকেজো হয়ে পড়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোভিড-১৯ দ্বিতীয় ধাপে শুরু হয়েছে তাই বেসিনগুলো পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করার প্রয়োজনীয়তা মনে করে সব উপজেলায় চিঠি দিবো। প্রয়োজনীয় পানির জন্য আমরা পুনরায় সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করার চেষ্টা করছি। আর এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একজন মনিটরিং অফিসারকে দায়িত্ব দেয়া হবে।’
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ভোলার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. বাবুল আখতার জানান, বছরের পর বছর সহযোগিতা করা যায় না। যখন জরুরি ছিল আমরা তখন পানি সরবরাহ করেছি। কিন্তু হাত ধোয়ার পাশাপাশি বাজারের সব ব্যবসায়ী এ পানি ব্যবহার করতেন বিধায় পানি দ্রুত শেষ হয়ে যেত। তাই আমরা পানি সরবরাহ করা বন্ধ করে দিয়েছি। জনস্বার্থে পানি সরবরাহ করবে ভোলা পৌরসভা, আমরা কেন?
ডব্লিউএস/এম. জামান/১১ এপ্রিল/২০২১

পূর্ববর্তী খবরভোলা ডিবি পুলিশের হাতে ২০(বিশ) পিছ ইয়াবা সহ মোঃ শরীফ নামে মাদক ব্যবসায়ী আটক।
পরবর্তী খবরভোলায় পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা!