ভোলায় লকডাউনে খেটে খাওয়া মানুষে ভালো নেই।

0
16

দৈনিক ভোলা সময় নিউজ।

ভোলা জেলা প্রতিনিধি, মোঃ সাইফুল ইসলাম।

সারাদেশে মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় সরকারের ঘোষিত সাতদিনের কঠোর লকডাউনে হতাশায় দিন কাটাচ্ছে ভোলা জেলার অসহায়,হতদরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষ ভালো নেই তারা ।
সাতদিনের কঠোর লকডাউনের আজ শনিবার ৩য় দিন চলছে।

বাড়ি বিক্রমপুর আবার অনেকেই টাঙ্গাইলের বাসিন্দা।
কিন্তু থাকেন ভোলার মহাজনপট্টিতে তাও আবার ৪০ বছর ধরে হাড়ি-পাতিল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে কেউবা কাপড় এরকমই দৃশ্য দেখা যায় সরজমিনে গিয়ে।
দেখা যায় হাড়ি পাতিল নিচে বিছানা আর তাদের অগোছালো কিছু চিত্র, আব্দুল মালেক মিয়া বয়স ৭০ বা তার বেশি ,দাড়ি সাদা হয়ে গেছে নিয়ে ৫মেয়ে নিয়ে তার সংসার কিন্তু পরিবারের খাবার নির্বাহের জন্য থাকছেন ভোলায় ব্যাচেলর হিসেবে বুড়ো বয়সে এরকম দৃশ্য দেখে যে কেউ কেঁপে উঠবে।
মালেক মিয়া বলেন আমরা গরীব মানুষ, দিন আনি, দিন খাই ঈদে কিংবা কিছু টাকা হলে বাড়ি যাই ৪০বছর ধরে আমনেগো ভোলায় থাকি ।
ফেরি করে যা পাই তা দিয়ে কোন রকম চলি কিন্তু এখন তাও পারছি না খুব কষ্টে আছি এমনই শোনালেন আব্দুল মালেক মিয়া সহ তার সাথে থাকা ৫ থেকে ৭জন।

বোরহানউদ্দিন উপজেলার পৌর বাজারে পোস্ট অফিসের সামনে পানের দোকান করেন আবদুর রব মিয়া লকডাউনে দোকান বন্ধ থাকার কথা ,তিনি কেন খুলেছেন ! এমন প্রশ্ন করলে জবাবে তিনি বলেন আমার পরিবারের ৯ জন লোক একদিন দোকান না করলে সবাই মরতে হইবো, আর বাইচা থাকলে খাওয়ামু কি পোলাপানরে! তাই দোকানে বসছি তাও কাস্টমার নাই সারাদিনে বেচছি ৩০০ টাকার মতো একদিনের বাজার ও হইবো না। আমাগো কষ্ট কে বুঝবো? রিকশাচালক জাহাঙ্গীর বলেন , লকডাউনে খুব কষ্টে থাকতে হয়। এর আগের লকডাউনেও অনেক কষ্টে কেটেছে আমার ও পরিবারের সবার । যদিও ঘর থেকে বের হতে মানা করা হচ্ছে; কিন্তু বের হতে না-পারলে খাব কী? ঘরে বাচ্চা পোলাপান খাবার চায় অন্তত একটা চকলেট ওতো দিতে অইব। কামাই না করলে কেমনে দিমু আর সহ্য হয় না। তিনি বলেন আমনে একটু আমাগো চেয়ারম্যান রে বইলেন সাহায্যের জন্য আমার বাড়ি মানিকা ইউনিয়নে ২ নং ওয়ার্ডে। বোরহানউদ্দিন বাজারের সজিব (১৬) নুরুল আমিন (৫০), ফারুক (৬৫) ফল ব্যবসায়ী বলেন, এমনিতেই ব্যবসায়ের অবস্থা তেমন ভালো না। এরপর সামনে আসছে ঈদুল আযহা। এখনও যদি ব্যবসা না-করতে পারি, তাহলে পরিবার নিয়ে যাব কোথায়? খাব কী? হাওলাদার মার্কেটের চায়ের দোকানি আবদুল লতিফের যেন মাথায় হাত। দুশ্চিন্তায় তার ঘুম হারাম হয়ে গেছে। দোকান না-চললে পরিবার নিয়ে কিভাবে চলবে তিনি জানান তার ঋণ রয়েছে লক্ষাধিক টাকা কী করবেন এখন ভেবে পাচ্ছেন না। কাচিয়া ইউনিয়নের হারুন একজন রিকশাচালক, তিনি বলেন স্যার পেটে ভাত নেই ,পেটের দায়ে রিক্সা চালাই কিন্তু রাস্তায় বেরোলেই জরিমানা না হয় জেল,তিন মেয়ে ও ১০ মাসের একটা ছেলে আছে! তার দুধ কিনার টাকা নাই। ঘরে বসে থাকলে আমার বাচ্চাটা মারা যাবে ;না খেয়ে এর দায় কে দেবে আপনি বলেন? কি করব ভেবে পাচ্ছি না, একদিকে না খাওয়ার যন্ত্রনা অন্যদিকে পরিবারের আহাজারি । তিনি বলেন,আমরা গরিব মানুষ দিন আনি, দিন খাই। যেদিন কামাই নাই, সেদিন খাওয়াও নাই-ঠিক এমনই অবস্থা। রিকশাও যদি না-চালাতে পারি, তাহলে সহায়তা না-পেলে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। বাসায় আমি ছাড়াও আরও ৫ জন আছে। তাদের খাওয়াবে কে? সরকার যদি মানুষকে ঘর থেকে বের করতে না-চায়, তাহলে আমার মতো গরিব মানুষকে খাবারের নিশ্চয়তা আগে দিতে হবে। ছোট একটি খাবারের হোটেলের কর্মচারী শামসু মিয়া,মাসে যা টাকা কামাই,কোনোমতে চলে। এর মধ্যে যদি লকডাউন হয়, তাহলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, তা ভেবে পাই না। তিনি জানান তার বাড়ি পক্ষিয়া ৯নং ওয়ার্ডে।তিনি ত্রাণের আশায় আছেন। তিনি বলেন, ত্রাণ কপালে জুটলে খাওয়া জুটবে। নয়তো কোনোমতো অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হবে। এমন আরও অভিযোগ অসহায় মানুষের আর মধ্যবিত্তদের অবস্থা যেন আরো করুন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন দীর্ঘ ১৫ মাস বাসায় আছি আগে টিউশনি করতাম কিন্তু এখন বন্ধ কোনরকম খাবার জোটে না দু এক বেলা অনেক কষ্টে আছি আমাদের দেখার কেউ নেই। নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্ত মানুষের মাঝে চলছে হাহাকার আর হতাশায় ভুগছে সবাই। এদিকে সাত দিনের কঠোর লকডাউনে আজও সড়ক ফাঁকা, নেই যানবাহন, বন্ধ রয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ছাড়া অন্যান্য দোকানপাট এবং শপিং মল । প্রশাসনের কঠোর তৎপরতা দেখা গিয়েছে জেলার বিভিন্ন স্থানে।

পূর্ববর্তী খবরভোলায় দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যা।
পরবর্তী খবরবাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিকদের মনি কোঠায় স্থান করে নিয়েছেন যে ২ জন সেনা প্রদান।