জ্বালানির দাম বাড়ানোতে চাপ সামলানো কঠিন পড়েছে।

0
6

জ্বালানির দাম বাড়ানোতে চাপ সামলানো কঠিন পড়েছে

স্টাফ রিপোর্টার

দেশের বাজারে নজির বিহীন দাম বেড়েছে জ্বালানি তেলের। বিশ্ববাজারে যখন জ্বালানি তেলের দাম কমেছে ঠিক তখনই শুক্রবার (আগস্ট) রাতে সরকার সব ধরনের জ্বালানির দাম এক লাফে ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। লোকসান কমাতে জ্বালানির অস্বাভাবিক দাম বাড়ানোর এমন সিদ্ধান্তে হোঁচট খেয়েছে দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা।

বিশেষ করে শিল্পকারখানা মালিকরা বলছেন, তাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে কমপক্ষে ১০ শতাংশ। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার বিরূপ প্রভাব পড়বে ব্যবসা-বাণিজ্যে। ভোক্তাদের পকেট কাটা যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষক থেকে শুরু করে নিম্নআয়ের মানুষরা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কাজটা ধীরে ধীরে করা উচিত ছিল। এক লাফে এত বেশি বাড়ানোর চাপ সামলানো কঠিন হয়ে যাবে। এটা আগে থেকে বাড়ানো হলে জনগণকে এত চাপ নিতে হত না। এর প্রভাব ঘুরেফিরে জনগণের উপর পড়বেই।

শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে বাড়তি চাপে শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কাও বেড়ে যেতে পারে। সরকারকে এ বিষয়টা ভাবতে হবে।

জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে কেমন প্রভাব ফেলবে জানতে চাইলে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ঢাকাপ্রকাশ’কে বলেন,‘জ্বালানির দাম বাড়বে। কিন্তু এক লাফে এত বেশি বাড়বে, তা সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়বে। ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে সব শিল্পকারখানায় এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। পরিবহনে শ্রমিকদের যাতায়াত করতে হয়। উৎপাদন খরচও বাড়বে। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। তাই বলা যায়, এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে না। কিন্তু আমরা তো এ মুহূর্তে শ্রমিকদের বেতন বাড়াতে পারব না। তাই শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কাও বেড়ে গেল।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে এই শীর্ষ ব্যবসায়ী বলেন, ‘করোনার প্রভাবে আমরা তো কোনো পণ্যের বাড়তি দাম পাইনি। বায়াররা দাম বাড়ায়নি। আবার লাভও দ্বিগুণ হয়নি। তাই এ মুহূর্তে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি আমাদের হতাশ করেছে। লাভ তো দূরের কথা খরচ প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে গেল।

জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি এ মুহূর্তে অর্থনৈতিকভাবে কতোটা যুক্তিযুক্ত তা জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ ও বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর ঢাকাপ্রকাশ’কে বলেন, ভর্তুকি কমাতে সরকার জ্বালানির দাম বাড়াবে, এটা স্বাভাবিক। আগে অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে। সেটা লাঘব হবে। কিন্তু এই মুহূর্তে যেভাবে বাড়ানো হয়েছে তা সবার জন্য কষ্টের ব্যাপার। এক বছর আগে থেকে বাড়ানো হলে এত চাপে পড়তে হত না।

তিনি আরও বলেন, সরকার আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ হয়ত চূড়ান্ত করেছে। যে কোনো মুহূর্তে ঘোষণা আসতে পারে। ঋণের জন্য আইএমএফের সঙ্গে সরকারের কী চুক্তি হয়েছে, সেটা জানি না। তবে তারা সব সময় ভর্তুকি কমার পক্ষে। তা আমলে নিয়েই সরকার সে পথেই হাঁটছে। এ জন্য হয়ত সারের পর তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, এখন থেকে ডিজেলের দাম হবে ১১৪ টাকা লিটার, যা এত দিন ৮০ টাকা ছিল। এ ক্ষেত্রে দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৪ টাকা। কেরোসিন এবং ডিজেলের দাম সমান, অর্থাৎ ১১৪ টাকা লিটার করা হয়েছে। পেট্রল ৮৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা এবং অকটেন প্রতি লিটার ৮৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে।

এর আগে গত বছর নভেম্বরে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়েছিল সরকার। তখন ডিজেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮০ টাকা লিটার। ডিজেলের দাম বিশ্ববাজারে ব্যারেলে ১৭০ ডলার থেকে ১৩০ ডলারে নেমেছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমে এখন ৯০ ডলারে এসেছে। তারপরও দেশে জ্বালানির দাম বাড়ল প্রায় ৫০ শতাংশ।

পূর্ববর্তী খবরপুলিশের আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইজিপিসহ ১০ জনকে আইজিপি সরাসরিলিগ্যাল নোটিশ।
পরবর্তী খবরদৌলতখানে কলেজ ছাত্রীর নগ্ন ভিডিও ধারণ করে ধর্ষণ: ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।